Flickr Gallery

Tuesday, December 11, 2012

চিট ফান্ডের চিটিংবাজিতে শাড়ির আঁচল চ্যাটপেটে


পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের এবার আঁতে ঘা লেগেছে। তাই তাদের মন্ত্রীরা বিরোধীদের মারতে শুরু করেছে খোদ বিধানসভার মধ্যেই। অনেকে বলছেন এই সরকার চালাচ্ছেন চিট ফান্ডের কর্তারা। শাসক দলেরই সাংসদ সোমেন মিত্র কয়েকমাস আগে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিতে এই বিষয়ে জানিয়েছেন। সরকার যে চারটি স্তম্ভের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে তার তিনটি তৈরি হয়েছে চিট ফান্ডের টাকায়। বাকি একটি স্তম্ভ শাড়ির আঁচল পেঁচিয়ে তৈরি। তাই বিরোধীরা চিট ফান্ড নিয়ে যতই প্যাঁচাল পাড়ুক সরকারি মন্ত্রীরা চিট ফান্ডের সঙ্গে চিটে গুড়ের মতো লেপটে থাকতে চাইবেন।

গ্রামগঞ্জের সরল সাদা গরীব মানুষের কাছে ধোপদুরস্ত হয়ে কোট টাই পরে কিছু লোক পৌঁছে যাচ্ছে। গিয়ে অঙ্ক কষে বুঝিয়ে দিচ্ছে ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে লোকসান। তার চেয়ে বেশি টাকা পাওয়া যেতে পারে চিট ফান্ডের ‘খাতা’ খুললে। এই টাকা দিয়ে উন্নয়ন হবে। কল হবে। কারখানা হবে। প্রচুর লোক চাকরি পাবে। অর্থাৎ যিনি টাকা রাখবেন আদতে তিনি রাজ্যের উন্নয়নের অংশীদার হবেন। তার পরিবর্তে ব্যাঙ্কের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ বা চার-পাঁচ গুণ হারে সুদ পাওয়া যাবে। এত টাকা পাওয়া যাবে যে গুণে শেষ করা যাবেনা। চাষাভুষো, ছাপোষা, লোভী, নির্লোভ সবাই মিলে যার যেটুকু সম্বল ছিল দিয়ে দিল চিট ফান্ডে। চিটিংবাজি ধরা যখন পড়তে শুরু করল তখন আর সেই কোট টাই পরা ধোপদুরস্ত লোকজন বেপাত্তা হয়ে গেছে। ধরা পড়ল গ্রামের পঞ্চা। পঞ্চা বলে আমি কি করব! আমারও তো টাকা মার গেছে। ওরা ফোনও তুলছেনা। অফিসের চেয়ার টেবিল ছাড়া আর কিছু নেই। সব ভোঁ ভাঁ। 

গ্রামের মানুষ ছাড়বে কেন! পঞ্চাই চোর। আমরা তোকে সামনে দেখে টাকা দিয়েছি ভাই। তুই না থাকলে আমরা কেন টাকা দিতে যাব। তুই তো বললি, ভয় নেই, এটা পরিবর্তনের যুগ। মানুষের সরকার। মানুষের কি করে দু’পয়সা রোজগার হবে সেই দিকটাই দেখছে। পঞ্চা বেগতিক দেখে গ্রাম ছেড়ে পালাল। চিট ফান্ডের চিটিংবাজি কিন্তু শেষ হলনা। এবার এল নেত্য কুন্ডু। নেত্য বলল, শোন, পঞ্চাকে বিশ্বাস করে তোমরা ভুল করেছ। এই দেখ, আমাদের কোম্পানি নাজিরপুরের শঙ্কর বিশ্বাসকে কত টাকা পাইয়ে দিয়েছে। রাধানগরের নিমাই আমাদের সঙ্গে ব্যাবসা করে বড়লোক হয়ে গেল। তোমাদের গ্রামের শম্ভুকে একবার শুধাও। আমার কথা বিশ্বাস না হলে টাকা দিওনা। তবে টাকা দিলে ঠকবেনা। এটা আমার গ্যারান্টি। আমি নেত্য কুন্ডু। আমি বাজে কথা বলার লোক নই। 

সরকার নির্বিকার। তিনটি পায়া তো চিট ফান্ডের টাকায় তৈরি। বিকারগ্রস্ত নেত্রীও নির্বিকার। তাঁর শাড়ির আঁচলটাই তো পেঁচিয়ে আছে চিট ফান্ডে। চিট ফান্ড, চিটিংবাজ আর চিটে গুড়ের সঙ্গে লেপটে শাড়ির আঁচলটাই চ্যাটপ্যাট করছে। চ্যালাচামুন্ডা, মন্ত্রীফন্ত্রীরা সব চিট ফান্ডের সঙ্গে চিটে গুড়ের মতো লেপটে আছেন। কেউ যদি আপত্তি করেছ ভায়া তবে পেঁদিয়ে বৃন্দাবন দেখিয়ে দেব। এখন উন্নয়ন চলছে। সবাই তাই চুপ থাকুন।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
বাংলা ব্লগ জগতের সিন্ধুতে আমরাও একটা বিন্দু। নেট ঘেঁটো বাঙালির আপ্যায়ণে বড় হচ্ছে। শৌভিকের লেখা পড়তে এই ব্লগে যান LEKHASHAUBHIK.BLOGSPOT.COM